সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:১২, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাইবার আইনে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাইবার আইনে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ কোনোভাবেই দমনমূলক আইনে পরিণত হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সাইবার আইনের অপব্যবহার করে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হবে না। একই সঙ্গে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনের অপব্যবহার থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

সোমবার সচিবালয়ে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বক্তব্য দেন। এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামও উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইটি বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকার সংগঠন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেই প্রস্তাবিত আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি বলেন, অধিকতর মতামত ও পরামর্শ নেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিসভার নির্দেশনা অনুযায়ী জনমত সংগ্রহের জন্য খসড়াটি ইতোমধ্যে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী এবং সাইবার-স্পেস ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে মতামত এসেছে। সরকার এসব মতামত পর্যালোচনা করছে।

পরামর্শ সভায় দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম প্রস্তাব করেন, প্রস্তাবিত আইনটি যেন সাংবাদিকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আইনে ‘সেভিং ক্লজ’ বা সুরক্ষা বিধানসহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষাকবচ রাখার বিষয়ে গণমাধ্যম ও সাইবার-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আরও আলোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মত দেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার এ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

সভায় আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কিংবা তাকে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও এসেছে।

তিনি জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ জমা দেবেন। এরপর সেই সুপারিশ খসড়া আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা বিবেচনা করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো মানুষ যাতে অনির্দিষ্টকাল ধরে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আটকে না থাকেন, সে বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ জন্য মামলা ও আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

খসড়া আইন নিয়ে পরামর্শ প্রক্রিয়া সমন্বয়ের জন্য প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি তদারক করবে।

পরবর্তী ধাপে গণমাধ্যম সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাইবার বিশেষজ্ঞদেরও আলোচনায় যুক্ত করা হবে। তাদের কাছ থেকে সাত থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, অংশীজনদের দেওয়া সুপারিশ পর্যালোচনার পর সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের আগে আবারও সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নতুন করে মতামত জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে।

তিনি জানান, মন্ত্রিসভায় তোলার আগে বিলটি আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে। এরপর মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলে তা সংসদে উত্থাপন করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করে আইনটি সংসদে পাস করাতে চায় না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংসদীয় আলোচনার পাশাপাশি সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে উঠে আসা মতামতও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়