বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:২১, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

জাতিসংঘে বাগ্‌বিতণ্ডা, অধিবেশন স্থগিত

জাতিসংঘে বাগ্‌বিতণ্ডা, অধিবেশন স্থগিত
ছবিঃ সংগৃহীত

কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিতর্কের সময় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন দেশ দুটির প্রতিনিধিরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয় সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ কিউবার সমাজতান্ত্রিক সরকারের সমালোচনা করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ ও বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

ওয়াল্টজের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিল্লা ও দেশটির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিজেদের আসন থেকে চিৎকার করেন এবং টেবিলে আঘাত করেন। এ সময় খলিলুর রহমান বারবার হাতুড়ি ঠুকে প্রতিনিধিদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তবে পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।

বক্তব্যের একপর্যায়ে ওয়াল্টজ বলেন, কিউবার প্রতিনিধিদলের আচরণ সবাই শুনতে পাচ্ছেন বলে তিনি আশা করেন। পরে কিউবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, হাভানায় এ ধরনের প্রশ্ন তোলার পরিণতি কী হতে পারে, তা ভেবে দেখা উচিত।

এর জবাবে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবাদ জানাতে সভাকক্ষের সামনের দিকে এগিয়ে যান। ওয়াল্টজ তখন তাঁকে বক্তৃতামঞ্চ থেকে দূরে সরে যেতে বলেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্র, এটি জাতিসংঘ। এটি আপনাদের কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র নয়। আপনারা আমাকে কিংবা আমার সহকর্মীদের চুপ করাতে পারবেন না।’ 

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খলিলুর রহমান অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। পরে অধিবেশন পরিচালনার নিয়ম অনুযায়ী কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রক্রিয়াগত বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর নিজের আসনে ফিরে রদ্রিগেজ পারিল্লা ওয়াল্টজের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান এবং তাঁর অভিযোগকে ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেন।

পরে বড় ধরনের আর কোনো বিঘ্ন ছাড়াই বক্তব্য শেষ করেন ওয়াল্টজ। এ সময় তিনি জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের নিন্দা জানিয়ে আনা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। 

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াল্টজের সমালোচনা করেন রদ্রিগেজ পারিল্লা। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াল্টজ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ভেবে ভুল করছেন। তাঁর আচরণ ও বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ওয়াল্টজ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক সদস্য। এর আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। ইয়েমেনে হুথিদের ওপর হামলা নিয়ে আলোচনার একটি সিগন্যাল গ্রুপে ভুলবশত এক সাংবাদিককে যুক্ত করার ঘটনা সামনে এলে তাঁকে নিয়ে সমালোচনা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল্টজকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেন। একই সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও দেওয়া হয়।

কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের অবসান চেয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রতিবছর প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। ২০২৬ সালের ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের বিতর্কও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। 

জনপ্রিয়