খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম
ভুল বুঝিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে গেছে ড. ইউনূসের সরকার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যে চুক্তিটি করা হয়েছে, তা নিয়ে শুরু থেকেই সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিকর ধারণা দেওয়া হয়েছিল। প্রথম দিকে বলা হয়েছিল, আলোচনাটি কেবল শুল্ক (ট্যারিফ) সংক্রান্ত—৩৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়েই সীমাবদ্ধ। এমনও ধারণা দেওয়া হয় যে কিছু প্রকিউরমেন্ট চুক্তি সম্পাদন করলেই বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু চূড়ান্ত চুক্তিপত্র প্রকাশের পর আমরা হতভম্ব ও বিস্মিত হয়েছি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘একটি অনির্বাচিত বা অন্তর্বর্তী সরকার কিভাবে এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিতর্কিত চুক্তি করে যেতে পারে, যার দায়ভার ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারকে বহন করতে হবে।’ তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারকে সমালোচনা করার মতো কোনো বিষয় থাকলে এই চুক্তিটিই তার প্রধান উদাহরণ।
মোয়াজ্জেম আরো বলেন, ‘চুক্তির শেষ দুটি ধারা অনুযায়ী, উভয়পক্ষ ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি থেকে সরে আসতে পারে। পাশাপাশি সব আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা নয়।
এ দুই প্রক্রিয়ার কোনোটিই এখনো সম্পন্ন হয়নি, ফলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনা শুল্ক সংক্রান্ত হলেও সেটিকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মতো একটি তুলনামূলকভাবে দুর্বল দেশকে বৈষম্যমূলক চুক্তিতে বাধ্য করা হয়েছে কি না—সে প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকারের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজা।
ড. মোয়াজ্জেম বলেন, ‘একতরফা বা সীমাবদ্ধ চুক্তির পরিবর্তে উভয় দেশের বাণিজ্য স্বার্থ রক্ষায় একটি সমন্বিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি হওয়া উচিত।’
তিনি মনে করেন, ট্যারিফসংক্রান্ত যে অংশটি সামনে এসেছে, তা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ সব সময় কম খরচে ও দক্ষ প্রযুক্তি ব্যবহারের পক্ষে, যা ভারত বা চীনের মতো প্রতিবেশী দেশ থেকে আসে। যদি নতুন চুক্তির কারণে এসব ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি হয়, তবে তা দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নীতি-নির্ধারণী সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।’
মোয়াজ্জেম বলেন, ‘এই চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক ও নীতিগত স্বাধীনতার প্রশ্নে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে যেহেতু চুক্তি থেকে সরে আসার সুযোগ রয়েছে, সরকার চাইলে এখনো আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি সংশোধন করতে পারে।’



























