বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:০৮, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

রিয়ালে ব্রাত্য এন্ড্রিক ফ্রান্সে হ্যাটট্রিকে গড়লেন ইতিহাস

রিয়ালে ব্রাত্য এন্ড্রিক ফ্রান্সে হ্যাটট্রিকে গড়লেন ইতিহাস
ছবি: সংগৃহীত

এন্ড্রিকের রিয়াল মাদ্রিদের অধ্যায়টা ছিল হতাশার। কিন্তু লিঁওতে পা রেখেই যেন বদলে গেল তার গল্প। নতুন ক্লাবে এসে নতুন জীবন খুঁজে পেয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ফরাসি লিগ ওয়ানে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন তিনি—আর সেই সঙ্গে নিজের ফিরে পাওয়ার গল্পটাও জানান দিলেন গোলের ভাষায়।

গতকাল লিগ ওয়ানে মেৎজের বিপক্ষে ৫–২ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছে লিঁও। এই পাঁচ গোলের মধ্যে একাই তিনটি করেন ধারে খেলতে আসা এন্ড্রিক। ম্যাচের ১১ মিনিটে প্রথম গোল, প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় গোল এবং ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে তৃতীয় গোল করে পূর্ণ করেন নিজের হ্যাটট্রিক।

এই কীর্তির মাধ্যমে লিঁও ও লিগ ওয়ানের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে হ্যাটট্রিক করা ফুটবলার হয়েছেন এন্ড্রিক। ১৯ বছর ১৮৮ দিনে রেকর্ডটি গড়ে ভেঙে দেন বর্ণার্ড লাকমবের (১৯ বছর ১৯৬ দিন) দীর্ঘদিনের রেকর্ড। একবিংশ শতাব্দীতে তার চেয়ে কম বয়সে লিগ ওয়ানে হ্যাটট্রিক করেছেন কেবল জেরেমি মেনেজ, কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলে।

গত ডিসেম্বর রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে লিঁওতে যোগ দেন এন্ড্রিক। নতুন ক্লাবেই দুর্দান্ত শুরু করেছেন তিনি। প্রথম তিন ম্যাচে চার গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তা করেছেন। লিঁওর ইতিহাসে নতুন কোনো খেলোয়াড়ের জন্য এটিই সেরা শুরু। এর আগে ২০১৭ সালে মারিয়ানো দিয়াজ একই সময়ে তিন গোল করেছিলেন।

মেৎজের বিপক্ষে ম্যাচে এন্ড্রিকের প্রথম গোলটি আসে অধিনায়ক কোরেন্টিন টোলিসোর ক্রস থেকে। বাঁ পায়ের নিখুঁত ফ্লিকে বল জালে জড়ান তিনি। দ্বিতীয় গোলটি আসে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে—ডান দিক থেকে টাইলার মর্টনের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণ করে গোলকিপারকে কাটিয়ে জাল খুঁজে নেন এন্ড্রিক। পরে নিজেই আদায় করা পেনাল্টি থেকে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই তরুণ তারকা।

লিঁওর হয়ে বাকি দুটি গোল করেন প্যাট্রিক ক্লুইভার্টের ছেলে রুবেন ক্লুইভার্ট এবং টাইলার মর্টন। এই জয়ের ফলে ১৯ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চারে উঠে এসেছে লিঁও। সমান ম্যাচে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে পিএসজি।

রিয়ালে সময়টা ভালো না গেলেও লিঁওতে এসে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার রহস্য নিজেই জানিয়েছেন এন্ড্রিক। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “আমি আবার মাঠে ফিরতে পেরেছি এবং আমার হাসিটা ফিরে পেয়েছি। সবকিছু আমার কল্পনার চেয়েও ভালো। দলের সবাই খুব সহযোগী। আমি এখানে অনেক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি এবং সত্যিই খুব খুশি।”

ধারে খেলার জন্য লিঁওকে নিজেই বেছে নিয়েছিলেন এন্ড্রিক। কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন,
“লিঁওর খেলার ধরন আমার খুব পছন্দ। এটা আমাকে পালমেইরাসের সময়টার কথা মনে করিয়ে দেয়। এখানে আমি আক্রমণ ও রক্ষণ—দুটোতেই সাহায্য করতে পারি এবং অনেক স্বাধীনতা পাই।”