রোববার ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:১৫, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ধানমন্ডিতে রোটনের জানাজায় আসা ব্যক্তিদের মারধর

ধানমন্ডিতে রোটনের জানাজায় আসা ব্যক্তিদের মারধর
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের জানাজায় অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

রোববার বিকেলে ধানমন্ডির লেক সার্কাস এলাকার তাকওয়া মসজিদ প্রাঙ্গণে একদল ব্যক্তি তাদের মারধর করেন। এতে আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মসজিদের সামনে থেকে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

জানাজায় অংশ নিতে আসা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী।

তাকওয়া মসজিদে রোটনের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পেয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগ এবং তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা সেখানে জড়ো হন। তবে পুলিশের বাধার কারণে রোটনের মরদেহ মসজিদ প্রাঙ্গণে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জানাজায় অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের অভিযোগ, মরদেহ সেখানে পৌঁছানোর আগেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

ভারতের কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মারা যান নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। তার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর। রোববার তার মরদেহ দেশে আনা হয়। এদিন বিকেলে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
রোববার যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে রোটনের মরদেহ দেশে আনা হয়। পরে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রামে তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার আগে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে জানাজা পড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে বিকেলে মরদেহ নিয়ে মসজিদের দিকে যাওয়ার সময় সাইন্সল্যাব মোড়ে পুলিশ গাড়িটি আটকে দেয়।

রোটনের মরদেহের সঙ্গে থাকা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা মো. রবিন বলেন, বাদ আসর তাকওয়া মসজিদে জানাজা পড়ানোর কথা ছিল। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সাইন্সল্যাব মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাদের ধানমন্ডির দিকে যেতে বাধা দেয়। হাসপাতালের বিপরীত পাশে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর পুলিশ দ্রুত চলে যেতে বললেও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে গাড়িটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়।

তাকওয়া মসজিদের সামনে জানাজায় অংশ নিতে আসা মাজহারুল ইসলাম মানিক বলেন, বাদ আসর সেখানে জানাজা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নামাজের আগেই পুলিশ রোটনের মরদেহ ধানমন্ডি এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়নি।

মানিকের অভিযোগ, জানাজায় অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা মারধর করেছেন।

এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল ইসলাম বলেন, “যারা রোটনের মরদেহ নিয়ে আসছিলেন, তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়েছে। তাদের বলেছি, ধানমন্ডিতে এসে যেন জানাজা পড়িয়ে যায়। কিন্তু তারা রাজি না হয়ে বলেছে, চট্টগ্রামে যেতে দেরি হয়ে যাবে। এজন্য তারা ওদিক দিয়ে চলে গেছে।”

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ওসি বলেন, “তারা কয়েকজন মিছিল করার চেষ্টা করছিল। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসছে।”

তবে কোথায় মিছিল করার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ওসি। তিনি বলেন, “তাদের আগে থানায় নিয়ে আসুক, তখন জানা যাবে।”

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

জনপ্রিয়