বুধবার ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:১৩, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ছবি তুলতে গিয়ে হেনস্তার শিকার ফটোসাংবাদিক, প্যান্ট খুলে তল্লাশির হুমকি

ছবি তুলতে গিয়ে হেনস্তার শিকার ফটোসাংবাদিক, প্যান্ট খুলে তল্লাশির হুমকি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের কবিরপুর এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন ফটোসাংবাদিক মহুবার রহমান। একটি পোশাক কারখানার সামনে শ্রমিকদের ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় তাকে বাধা দেন কারখানার নিরাপত্তাকর্মী ও ব্যবস্থাপক। একপর্যায়ে কেড়ে নেওয়া হয় তার মোবাইল ফোন। পরে তাকে আটকে রেখে ডেকে আনা হয় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে। সেখানে ওই নেতা ফটোসাংবাদিককে প্যান্ট খুলে তল্লাশি করার হুমকি দেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

ওই দিন ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছিল। আন্দোলনের পরিস্থিতি ও শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার চিত্র ধারণ করতে কবিরপুর এলাকায় যান মহুবার রহমান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, কয়েক দিনের আন্দোলনের পর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। অনেক শ্রমিক কাজে ফিরেছেন।

প্রথমে ইকোটেক্স গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার ছবি ধারণ করেন তিনি। তবে প্রত্যাশিত চিত্র না পেয়ে সেখান থেকে কিছুটা দূরে পলমল গার্মেন্টসের সামনে যান। তখন কারখানাটিতে চলছিল দুপুরের খাবারের বিরতি। শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হওয়ার সময় সড়ক বিভাজকে দাঁড়িয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন তিনি।

এ সময় কারখানার এক নিরাপত্তাকর্মী তাকে ছবি তোলা শেষে দেখা করতে বলেন। পরে কারখানার ফটকের সামনে গেলে ছবি তোলার অনুমতি আছে কি না, তা জানতে চান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। জবাবে মহুবার বলেন, কারখানার বাইরের সড়ক থেকে শ্রমিকদের ছবি তুলতে অনুমতির প্রয়োজন কেন?

এরপর কারখানার এক ব্যবস্থাপক তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে পাশের একটি ফটকের সামনে নিয়ে যান। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। বরং কারখানার ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে রাজি না হলে পাশের একটি চায়ের দোকানে নিয়ে আটকে রাখা হয় তাকে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মহুবার রহমান বলেন, ‘সেখানে আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। ফোনে থাকা ছবি এবং তাদের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও মুছে দেওয়া হয়।’

এ সময় ওই ব্যবস্থাপক ফোন করে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে সেখানে ডেকে আনেন বলে অভিযোগ করেন মহুবার।

তিনি বলেন, ‘ওই নেতা এসে প্যান্ট খুলে তল্লাশি করার কথা বলেন। পরে আমার ব্যাগ খুলে ক্যামেরাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম পরীক্ষা করা হয়। তবে ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিগুলো পরীক্ষা করা হয়নি।’

পরে মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হলেও মহুবারকে জোর করে কারখানার ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১৫ মিনিট আটকে রাখার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানোর কথা ছিল। তবে তিনি আগেই ছাড়া পান।’ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলেও জানান তিনি।

জনপ্রিয়