তেজগাঁও কলেজে শিক্ষার বেহাল দশা, ফেল ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তেজগাঁও কলেজে শিক্ষার মান ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এবারের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় কলেজটির প্রায় ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকে।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার মান উন্নয়ন, নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল ভালো করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের পরিবর্তে কলেজ প্রশাসনের একটি অংশ শিক্ষক রাজনীতি ও দলীয় বলয় তৈরিতে বেশি মনোযোগী। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর কলেজের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ নিয়ে শিক্ষকদের ব্যস্ততা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজের কয়েকটি বিভাগে পর্যাপ্ত যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নেই। যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের অনেকের ক্লাসও নিয়মিত হয় না। অভিযোগ রয়েছে, কিছু শিক্ষক পাঠদানে ChatGPT-এর সহায়তা নেন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সময় দেন না। এমনকি নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এতে পাঠ্যবিষয় বুঝতে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পেতে সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
শুধু পাঠদানের ঘাটতিই নয়, কলেজের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মিছিল, সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক চাপ ও হয়রানির আশঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত কলেজে আসতেও আগ্রহ হারাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যেখানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রমই অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা, সেখানে রাজনৈতিক তৎপরতা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলকে তাই বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রায় ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে ব্যক্তিগত প্রস্তুতির ঘাটতিসহ নানা কারণ থাকতে পারে। তবে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ এবং কলেজের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার দায় কেবল তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ফলাফলের কারণ অনুসন্ধানে কলেজের পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার মানের এই অবনতির দায় কলেজ প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না।



























