সন্ধ্যার শিতল হাওয়ায় প্রাণ ফিরে পায় যবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মাঠ
দিনের বেলায় তীব্র রোদে নির্জনতা থাকলেও সন্ধ্যায় ভিন্ন এক রূপ ধারণ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় মাঠ। সন্ধ্যার মৃদু শীতল দক্ষিণা হাওয়ায় প্রশান্তি খুঁজে পায় শিক্ষার্থীরা, আর জ্যোৎস্নাময় চাঁদের আলো অদ্ভুত অনুভুতির উদ্রেক ঘটায় প্রকৃতি প্রেমিদের মনে।
তবে বিকেলের পরপরই শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং তাদের ছোট ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন ধরনের খেলায় মেতে ওঠে।
দিনভর রোদের পর সন্ধ্যার মৃদু বাতাসে শিক্ষার্থীদের স্বস্তির ঠিকানা হয়ে ওঠে যবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মাঠ। স্নিগ্ধ বাতাস, খোলা আকাশ এবং সবুজ ঘাসের এই পরিবেশ শিক্ষার্থীদের কাছে যেন এক টুকরো স্বস্তির অনুভূতি। ক্লাস ও পরীক্ষার চাপ শেষে অনেকেই এখানে এসে বন্ধুদের সঙ্গে বা প্রিয় মানুষের সাথে আড্ডা দেন, হাঁটাহাঁটি করেন কিংবা কেউ বা একান্তে সময় কাটান।
অনেকেই মনে করেন এটি শুধু একটি মাঠ নয়, বরং তাদের মানসিক প্রশান্তির জায়গা। শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,
রসায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া হাসান বলেন, সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে থাকা খুব আনন্দ দেয়। আড্ডা, গল্প আর হাসিতে চারপাশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। নরম চাঁদের আলো আর স্নিগ্ধ বাতাস মনকে শান্তি দেয়। এই সময়ে দিনের ক্লান্তি দূর হয় এবং জীবনের মধুর মুহূর্তগুলো অনুভব করা যায়। এ ধরনের সন্ধ্যাগুলো একদিন স্মৃতিতে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
ফিনান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী উত্তম কুমার দাস বলেন, সারাদিন ক্লাস ও লেখাপড়ার পর সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে বসা অনেক আনন্দদায়ক। এই ঠান্ডা বাতাসে সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়। বন্ধুদের আড্ডা আর চাঁদের আলো মিলে এক সুন্দর অনুভূতি তৈরি করে।
অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা আফরিন জ্যোতি বলেন, সারাদিন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, কালচার মিডিয়া এবং মাইক্রোস্কোপ নিয়ে কাটানোর পর কেন্দ্রীয় মাঠে সন্ধ্যার সময় আসা অনেক শান্তি দেয়। বন্ধুদের সঙ্গে দিনের গল্প ও স্বপ্ন শেয়ার করা হয়। মাঠের শান্ত বাতাস, খেলাধুলা ও গান মিলিয়ে এক সুন্দর অনুভূতি তৈরি করে। এই মুহূর্তগুলো বন্ধুত্ব ও ভালোবাসাকে আরও গড়ে তোলে।
যান্ত্রিকতা ছাপিয়ে যবিপ্রবিতে গ্রামীণ আমেজ প্রকাশ করে ফিশারিজ এন্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাজু বলেন, সারাদিনের গরমপীড়া কাটিয়ে সন্ধ্যার স্নিগ্ধ বাতাস যখন যবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ছড়ায়, তখন সত্যিই মনে শান্তি লাগে। বন্ধুদের সঙ্গে কখনো লুঙ্গি পরে বের হওয়া এই ছোট ছোট, সাধারণ মুহূর্তগুলোই আমার জীবনের সবচেয়ে মধুর আনন্দ দেয় এবং যেটা না বললেই নয় এই আবহাওয়া গ্রামের কথা মনে করিয়ে দেয়।



























