মন্ত্রী মর্যাদার পদ পেলেন মিঠুন চক্রবর্তী
অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যসংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
বুধবার (৭ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে মিঠুন চক্রবর্তীকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যসংস্কৃতি বিভাগের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এদিন থেকেই তার কার্যকাল শুরু হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর মিঠুন চক্রবর্তীর ভূমিকার প্রশংসা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তখনই মিঠুনকে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।
নির্বাচনী প্রচারে মিঠুনের সক্রিয় ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাফল্যের পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সভা, রোড শো ও প্রচারে অংশ নেন তিনি। তাকে দেখতে বিজেপির বিভিন্ন সভায় বিপুল মানুষের সমাগমও হয়েছিল।
নির্বাচনে জয়ের পর মিঠুনের অবদানের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন শুভেন্দু অধিকারী। মিঠুনকে পাশে নিয়ে তিনি বলেন, ‘ইনি (মিঠুন) অত্যন্ত নিঃস্বার্থভাবে পশ্চিমবঙ্গের গত ১৫ বছরের বিপর্যয় থেকে বাংলাকে বাঁচাতে, পশ্চিমবঙ্গের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে, এখানকার রাষ্ট্রবাদীদের বাঁচাতে, বিশেষ করে মা-বোনেদের সুরক্ষিত রাখার জন্য নিরলস চেষ্টা করেছেন। ঐকান্তিক প্রয়াস ছিল। সীমা ছিল না তার পরিশ্রমের। এই নির্বাচনেও যদি সর্বোচ্চ সভা, রোড শো, এমনকী নির্বাচনের আগে ৮-১০ মাস ধরে ইনডোর মিটিং করেছেন। কোনো সাংবিধানিক পদ দিলেও নেন না মিঠুনদা। জাতীয় সদস্য তিনি। মাইক্রো লেভেলেও কাজ করেছেন প্রায় এক বছর ধরে। শেষ তিন-চার মাস সভার কোনো সংখ্যা নেই। আমি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি নিশ্চিতভাবে জনগণের ভোটে, আশীর্বাদে। বিজেপি মনোনীত করেছে। কিন্তু নেপথ্যের কারিগর হিসেবে যে কয়েকটা নাম আসে, তার মধ্যে মিঠুন চক্রবর্তী অন্যতম।’
জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারীরও প্রশংসা করেন মিঠুন। মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমি একটাই কথা বলব সবাইকে, এর থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে হতে পারে না। যে মুহূর্তে শপথ নিয়েছেন, তার পর থেকেই কাজ করছেন। আপনারা দেখুন। গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, এর থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে হতে পারে না। আমরা আশীর্বাদধন্য যে, শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি। আগামীতেও কী হবে দেখুন। চ্যালেঞ্জ করছি। আগামীতে এই যোদ্ধা একের পর এক লড়াই লড়বেন। আর আমি তো পিছনে রইলামই।’
তবে মিঠুনের রাজনীতিতে আসার ইতিহাস আরও পুরোনো। ছয় ও সাতের দশকে তিনি নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে রাজ্যসভায় পাঠান।
২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন মিঠুন। এরপর ২০২১ সালের ৭ মার্চ বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। একই বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির হয়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে নির্বাচনী প্রচারেও অংশ নেন এই অভিনেতা।
সূত্র: এবিপি আনন্দ



























