পরীমনির বিরুদ্ধে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ
ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রাজুকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে। এ ছাড়া তার সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীদের মাধ্যমে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চারটি সাংবাদিক সংগঠন।
সংগঠনগুলো হলো—মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ), মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ), ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরাম (ডিআরএফ) ও ইয়ুথ জার্নাল। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়।
মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আদালত প্রাঙ্গণে দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার ও সংগঠনটির সদস্য রবিউল ইসলাম রাজুকে প্রকাশ্যে হেনস্তা, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার ভিডিওতে পরীমনিকে ওই সাংবাদিকের উদ্দেশে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে দেখা গেছে। এ ছাড়া তার সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীদের মাধ্যমে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এমআরএর সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, “একজন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এভাবে প্রকাশ্যে হেনস্তা, গালিগালাজ ও হুমকির শিকার হওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের পেশাগত নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। কিন্তু প্রকাশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা দেহরক্ষী দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
একই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরাম (ডিআরএফ) বলেছে, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, অসৌজন্যমূলক আচরণ কিংবা নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে হেনস্তার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের আহত হওয়ার ঘটনাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ডিআরএফ মনে করে, সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ শুধু তাদের পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ। ঘটনার সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
পাশাপাশি পরীমনি ও তার নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কেড়ে নেওয়া মুঠোফোনসহ সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ডিআরএফ। আহত সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হেনস্তা, গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আদালত প্রাঙ্গণের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
সংগঠনটি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, আহত সাংবাদিকদের যথাযথ চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলা ও হুমকির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রাজুকে হেনস্তা, গালিগালাজ ও অপমান করার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিক সংগঠন ইয়ুথ জার্নাল।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একজন গণমাধ্যমকর্মীকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এভাবে হেনস্তা করা শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের মর্যাদার ওপর আঘাত। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত।
তবে ঘটনাটি ঘিরে পরীমনির পক্ষ থেকেও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে উল্লেখ করে ইয়ুথ জার্নাল বলেছে, অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণের আগে কোনো সাংবাদিককে দোষী সাব্যস্ত করা কিংবা জনসমক্ষে অপমান করা ন্যায়সংগত নয়।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের নীরবতা এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দৃশ্যমান প্রতিবাদ না আসায় হতাশা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রাজুর নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ইয়ুথ জার্নাল।



























