শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২০, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্য ‘মিথ্যায় ভরা’: হামাস

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্য ‘মিথ্যায় ভরা’: হামাস
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেওয়া বক্তব্যকে ‘মিথ্যায় ভরা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সংগঠনটির দাবি, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার নথিভুক্ত তথ্যের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিক্রিয়া জানায় হামাস। 

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার বিষয়টি নেতানিয়াহু যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছে সংগঠনটি।

জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে—এমন অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, ইসরায়েল কোনো গণহত্যা চালায়নি; বরং হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য একটি গণহত্যা ঠেকানো হয়েছে। গাজায় গণহত্যার অভিযোগকে তিনি ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’ বলেও উল্লেখ করেন।

নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, গাজায় সামরিক অভিযান চালানোর সময় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় ইসরায়েলি বাহিনী সতর্কতা অবলম্বন করেছে। এ সময় তিনি গাজায় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ এবং পোলিও টিকাদান কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। এসব বিষয় উল্লেখ করে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থা গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে খাদ্যসংকট, মানবিক সহায়তার ঘাটতি এবং বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করেছে।

হামাসের বিবৃতিতে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়। সংগঠনটির অভিযোগ, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিরা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও অস্তিত্বের অধিকার সংকুচিত করা হচ্ছে এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

তবে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিষয়টি নেতানিয়াহুর বক্তব্যেও আসে। তিনি এসব ঘটনাকে কয়েকজন ‘কিশোর অপরাধীর’ কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, তিনি এ ধরনের সহিংসতাকে সমর্থন করেন না। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার প্রসঙ্গ তুলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগকে একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপনের সমালোচনা করেন তিনি।

এদিকে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হওয়ার সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন প্রতিনিধি বেরিয়ে যান। এর আগে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদল অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদেরও এ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

প্রতিনিধিদের অধিবেশনকক্ষ ত্যাগের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। তাদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার বক্তব্যের সময় অধিবেশনকক্ষে একদিকে প্রতিনিধিদের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, অন্যদিকে ইসরায়েলপন্থী সমর্থকদের স্লোগান ও করতালিও শোনা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের কয়েকবার শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানাতে দেখা যায়।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণে তিনি সরাসরি নিউইয়র্কে উপস্থিত হতে পারেননি।

ভিডিও বক্তব্যে আব্বাস ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার আহ্বান জানান তিনি।

সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা, রয়টার্স।

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

জনপ্রিয়