মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৮, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

রাহুল গান্ধীদের আবেদনে ১৪ ত্রুটি, হচ্ছে না শুনানি

রাহুল গান্ধীদের আবেদনে ১৪ ত্রুটি, হচ্ছে না শুনানি
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোটের ১১ নেতার করা আবেদনে ১৪টি ত্রুটি পেয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি। আদালত ফি কম জমা দেওয়া, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের অস্পষ্ট ফটোকপি এবং কয়েকজন আবেদনকারীর আইনজীবী নিয়োগসংক্রান্ত নথির ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আবেদনটির শুনানি হচ্ছে না।

আবেদনকারীদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ত্রুটিগুলো সংশোধন করে বুধবার শুনানির জন্য আবেদনটি তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদনও করেছেন বিরোধী নেতারা।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি চিহ্নিত ত্রুটিগুলোর মধ্যে রয়েছে আদালত ফি বাবদ ২২০ রুপি কম জমা দেওয়া। এ ছাড়া মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের ফটোকপি অস্পষ্ট এবং নয়জন আবেদনকারীর আইনজীবী নিয়োগসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া হয়নি।

ওকালতনামাসহ আইনজীবী নিয়োগের প্রয়োজনীয় নথি জমা না দেওয়া আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (শরদচন্দ্র পাওয়ার) সংসদ সদস্য সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সৌগত রায়।

জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট রিট আবেদনে ব্যক্তিগত ব্যক্তিদের বিবাদী করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রেজিস্ট্রি। আবেদনে ভারতের নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশিকে বিবাদী করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় রাহুল গান্ধী নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আবেদনটি জমা দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং বিরোধী জোটের অন্য নেতারা।

আবেদনে বিরোধী নেতারা উল্লেখ করেছেন, সংবিধান অনুযায়ী সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাখার লক্ষ্যেই তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আইনজীবী এস প্রসন্নের মাধ্যমে জমা দেওয়া আবেদনে নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অপর দুই নির্বাচন কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনকারীদের দাবি, এসআইআর কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। বরং এই কার্যক্রম পরিচালনার সময় সুপ্রিম কোর্ট স্বীকৃত সুরক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সম্মিলিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে কি না, সে বিষয়েও তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়