বিজেপি কর্মী হত্যা মামলার আসামি পুলিশের গুলিতে নিহত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে বিজেপি কর্মী সুজিত মণ্ডল হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত সামাউল হক পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ানে ঘটনার পুনর্নির্মাণ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ধুলিয়ান ডাকবাংলো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে ধুলিয়ানে বিজেপি কর্মী সুজিত মণ্ডলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তদন্তে নেমে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ ও সিআইডি সামাউল হকসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।
মঙ্গলবার রাতে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনার পুনর্নির্মাণ চলছিল। এ সময় পুলিশের দাবি, সামাউল এক পুলিশ সদস্যের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাঁকে অনুপম নগর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে পুলিশ গুলি চালিয়েছিল, সে বিষয়ে সিআইডি বা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পুলিশের ওপর আক্রমণ হওয়ায় পুলিশ পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি বলেন, আইন হাতে তুলে নিলে পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা দেখতে পারে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁরা রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান। মাদক ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশকে পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তিনি সমর্থন দেবেন বলেও জানান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট সকালে ধুলিয়ানের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিজেপি কর্মী সুজিত মণ্ডল বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সামশেরগঞ্জ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, সুজিত নিখোঁজ হওয়ার পর একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। ওই ফোন নম্বর ও কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিংও পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়।
গত ৩ সেপ্টেম্বর সামশেরগঞ্জের পাশের ফারাক্কার বল্লালপুর ফিডার ক্যানেলের কাছে একটি বিচ্ছিন্ন পা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী তদন্তে সেটি নিখোঁজ সুজিত মণ্ডলের দেহের অংশ বলে শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় রাজ্য পুলিশ ও সিআইডি তদন্ত শুরু করে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মামলার প্রধান অভিযুক্ত সামাউল হক।
সামাউলের মৃত্যুর পর ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশের গুলি চালানোর পরিস্থিতি ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানতে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



























