সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:০৯, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নেতানিয়াহুর ক্ষমতা কি এবার হাতছাড়া হচ্ছে?

নেতানিয়াহুর ক্ষমতা কি এবার হাতছাড়া হচ্ছে?
ছবিঃ সংগৃহীত

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে জাতীয় নির্বাচনে যাচ্ছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে রয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলোর মধ্যেও ঐক্যের অভাব থাকায় নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসন দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে বণ্টন করা হয়। সরকার গঠনের জন্য সাধারণত অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। ফলে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে নির্বাচনের পর জোট গঠনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিভিন্ন জরিপেও কোনো পক্ষের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। 

নেতানিয়াহুর সামনে বড় পরীক্ষা

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। তাঁর সমর্থকদের কাছে তিনি নিরাপত্তা ও শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতীক। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা, গাজা যুদ্ধ পরিচালনা এবং দেশে চলমান দুর্নীতির মামলাকে কেন্দ্র করে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় রেখেছে।

নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। তিনি মধ্যপন্থি ইয়াশার দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সামরিক বাহিনীতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং নেতানিয়াহু সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা তাঁকে বিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ মুখে পরিণত করেছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদও নেতানিয়াহুবিরোধী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁদের নেতৃত্বাধীন ‘টুগেদার’ জোটের লক্ষ্য হলো বিভিন্ন মতাদর্শের ভোটারদের একত্র করা। ২০২১ সালে দুই নেতা জোট গড়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

নেতানিয়াহুর সাবেক ঘনিষ্ঠ মিত্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডর লিবারম্যানও এবার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েল আওয়ার হোম দল মূলত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আসা অভিবাসীদের মধ্যে সমর্থন পেয়ে থাকে। অন্যদিকে, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ইয়াইর গোলান ঐতিহাসিক লেবার পার্টিসহ বামপন্থি রাজনৈতিক শক্তির সমন্বয়ে গঠিত দ্য ডেমোক্র্যাটস দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি মিত্ররা

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক শিবিরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের পক্ষে স্মোটরিচের অবস্থান এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি কঠোর নীতির পক্ষে বেন-গভিরের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছে।

দুই নেতাই গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়া এবং সেখানে পুনরায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁদের দল ও সমর্থকদের অবস্থান নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য জোট গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে মতবিরোধ রয়েছে।

অর্থোডক্স দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ

দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহুর সরকার গঠনে কট্টর অর্থোডক্স দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের অব্যাহতি এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তাদের অবস্থান যুদ্ধকালীন সময়ে ইসরায়েলের সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আলোচনায় এই দলগুলোর সমর্থন নেতানিয়াহুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে সামরিক সেবা ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়সংক্রান্ত বিতর্ক জোট আলোচনায় জটিলতা তৈরি করতে পারে।

সরকার গঠনে নির্ণায়ক হতে পারে ছোট দল

নির্বাচনে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ছোট দল ও নির্দিষ্ট জোটের বাইরে থাকা দলগুলো সরকার গঠনের হিসাব বদলে দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের আরব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী রাম ও জয়েন্ট লিস্ট। নতুন ডানপন্থি দল পিপল অব ইসরায়েল এবং মধ্য-ডানপন্থি রিজার্ভিস্টস দলও নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক জরিপে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবিরের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর জন্যও সরকার গঠনের পথ সহজ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। ফলে নির্বাচনে কোন দল কতটি আসন পাবে, কারা জোট গঠনে সম্মত হবে এবং ছোট দলগুলো কাকে সমর্থন দেবে—এসব বিষয়ই নির্ধারণ করতে পারে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের নেতৃত্ব।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়