চাঁদাবাজি, দখল ও মারধরে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা, পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণে
ওয়েস্ট ধানমন্ডিতে মোহাম্মদ আলী গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য
ঢাকার হাজারীবাগের বছিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডি এখন সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য। ফ্যাসিস্ট আওমীলীগের দোষোর মোহাম্মদ আলী, মারুফ হোসেন দুলাল, মানিক, আহমেদ সাগর, আলী হোসেন ওরপে ভাইগনা আলী, মোহাম্মাদ আলীর স্ত্রী নাসরিন বেগম, মোঃ সোহেল রানা ও তাদের গ্যাং বছরের পর বছর এলাকায় ভয়ঙ্কর অরাজকতা চালিয়ে আসছে। চাঁদাবাজি, মারধর, জমি দখল, প্রতারণা, অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে পেশিশক্তি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে এই গ্যাং।
সাম্প্রতিক ভয়াবহ ঘটনা:
মাহফুজুল কবির মুভি নামে এক ব্যক্তি ৫০ লাখ টাকা দিয়ে বছিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডি এলাকায় ১০ নম্বর গলি নাসরিন ভিলায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন স্ত্রী রুমানা রহমানের নামে । স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে ফ্ল্যাট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলে মোহাম্মদ আলী গ্যাং ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ক্রেতারা ফ্ল্যাট দেখতে আসলে গ্যাংয়ের সদস্যরা তার স্ত্রী ও তাকে প্রকাশ্যে মারধর করে তারই বসায় গিয়ে —“আমাদের দয়ায় আছো, অন্য কোথাও বিক্রি করলে এর মাশুল দিতে হবে বলে হুমকি দেয়।” পর্বতি মাহফুজুল কবির মুভি ও তার স্ত্রী হাজারীবাগ থানায় মোহাম্মদ আলীর গ্যাং এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর -৩৩,২৪ আগস্ট ২০২৫। মুভি ও তার স্ত্রী সংবাদ মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
অভিযোগের ভয়াবহ চিত্র:
চাঁদাবাজি: প্রতিটি বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিকের কাছ থেকে একাদিকবার ৫-৭ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করেছে এ গ্যাং। রোড ডালাই,ও অবৈধ গ্যাস সংগযোগের জন্য। টাকা না দিলে টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে।
দখলবাজি ও প্রতারণা: একই প্লট একাধিকবার বিক্রির ঘটনা ঘটিয়েছে গ্যাং। প্রবাসীরা নিজের জমি বুঝে পেতে গেলে হামলার শিকার হয়েছেন।
অবৈধ নিয়ন্ত্রণ: এলাকার সব পাইলিং কাজ জোরপূর্বক নিজেদের মাধ্যমে করাতে হয়। টাকা না দিলে কাজ বন্ধ। ডিস কেবল ও ইন্টারনেট ব্যবসায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ—অন্য কেউ লাইন দিলে রাতের অন্ধকারে কেটে ফেলা হয়।
রাজনৈতিক ছত্রছায়া: অভিযোগ অনুযায়ী আওয়ামী লীগ আমলে জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাদেক খানের ছত্রছায়ায় মোহাম্মদ আলী গ্যাং কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় অবৈধ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে। বর্তমানে গ্যাংয়ের অন্যতম সদস্য আলী হোসেন ওরফে ভাগনে আলী বিদেশে পলাতক থেকেও তাণ্ডব চালাচ্ছে।
একজন স্থানীয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“এ গ্যাং আমাদের ঘরে ঢুকে টাকা দাবি করে, না দিলে মারধর করে। পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেও তারা ম্যানেজ করে বেরিয়ে যায়। আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
অভিযোগ সমুহের বিষয়ে মোহাম্মদ আলী গ্যাংদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করে ও তাদের পাওয়া যায় নি।
হাজারীবাগ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান—
“মোহাম্মদ আলী ও তার গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ঐ দিনের ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযানে গেলেও তারা পালিয়ে যায়। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপরাধী যত বড় প্রভাব শালী হোক না কেনো আমরা কাউকে ছাড় দিবোনা।
বাসিন্দাদের দাবি: বছিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডির মানুষ চায় মোহাম্মদ আলী গ্যাংকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। অন্যথায় এ এলাকা কখনো শান্ত হবে না।
পর্ব -১ পর্বতী পর্বে আরো বিস্তারিত নিয়ে আসছে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।



























