ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগের মধ্যেই এসআইকে পুরস্কৃত করলেন এসপি
এক লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠা বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম কিবরিয়াকে নগদ অর্থ পুরস্কার দিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এএনএম সাজেদুর রহমান। একই ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) পুরস্কৃত করা হয়েছে। ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের দিনই অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) বিভিন্ন গণমাধ্যমে এক লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর মধ্যেই অভিযুক্ত এসআইকে পুরস্কৃত করার বিষয়টি সামনে আসে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর উখিয়ার থাইংখালী এলাকায় ছৈয়দুল বশর ওরফে সিসি বশরকে আটক করে পুলিশ। এসআই গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযোগকারী ও প্রত্যক্ষদর্শী সরওয়ারের দাবি, অভিযানে দেড় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু এসআই কিবরিয়াকে বাদী করে দায়ের করা মামলার এজাহারে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি এক লাখ পিস ইয়াবা সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সরওয়ারের আরও অভিযোগ, আত্মসাতের শিকার ওই এক লাখ পিস ইয়াবা পরে মাদক কারবারিদের কাছে এক কোটি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।
এদিকে, অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করার বিষয়ে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এসপি স্যার যে এমন ভুল করবেন, সেটা আমরা বুঝতে পারিনি। নিয়ম অনুযায়ী মাসিক সভায় এ ধরনের পুরস্কার দেওয়া হয়।’
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। অভিযোগ-সংক্রান্ত তথ্য তাঁকে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।
কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এমন একজন ব্যক্তি কীভাবে কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হন, তা আমার বোধগম্য নয়।’ তাঁর অভিযোগ, এএনএম সাজেদুর রহমান কক্সবাজারে যোগ দেওয়ার পর থেকে পুলিশের হেফাজত থেকে ইয়াবা গায়েব হওয়ার ঘটনা যেন নিয়মিত ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: যুগান্তর



























