নওগাঁর পোরশায় ৪২ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে তিনতলা মাটির বাড়ি
আধুনিক ইট-কংক্রিট কিংবা রড-সিমেন্টের ব্যবহার ছাড়াই নওগাঁর পোরশা উপজেলায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে মাটির তৈরি একটি তিনতলা বাড়ি। প্রায় ৪২ বছর ধরে টিকে থাকা ব্যতিক্রমী এই বাড়িটি স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের বাঙ্গালপাড়া গ্রামে অবস্থিত বাড়িটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নির্মাণশৈলীর এক বিরল নিদর্শন। বালুমাটি, বাঁশ, তালের তীর ও ঢেউটিনের ছাউনি দিয়ে নির্মিত ছয় কক্ষের বাড়িটি চার দশকের বেশি সময় পেরিয়েও এখনো বেশ মজবুত অবস্থায় রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাড়িটির নির্মাতা প্রয়াত শামসুজ্জোহা। তিনি পোরশা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১১ সালে তিনি মারা যান।
প্রথমে বাড়িটি দুইতলা হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে পাশের এক আত্মীয় তাঁদের বাড়ির চেয়ে উঁচু ভবন নির্মাণ করলে অভিমান ও শখ থেকে শামসুজ্জোহা নিজের বাড়িটি তিনতলায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর সেই ইচ্ছাতেই বাড়িটি হয়ে ওঠে এলাকার ব্যতিক্রমী স্থাপনা। সে সময় বাড়িটি নির্মাণে প্রায় দেড় লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছিল।
শামসুজ্জোহার দুই ছেলে—আতিকুর রহমান সরকার (৩৬) ও বকুল সরকার (২০) এবং দুই মেয়ে রয়েছেন। ছোট ছেলে বকুল সরকার বলেন, “বাবার কাছে শুনেছি, পাশের এক আত্মীয়ের উঁচু ভবন দেখে অভিমান করেই বাবা বাড়িটি তিনতলা করেছিলেন। বাবা বেঁচে থাকাকালীন আমরা এই বাড়িতেই বসবাস করেছি।”
বর্তমানে পরিবারের সদস্যসংখ্যা কমে যাওয়ায় বাড়িটির নিচতলা বেশি ব্যবহার করা হয়। ওপরের তলাগুলোতে নিয়মিত যাতায়াত কম হলেও বাড়িটি এখনো টিকে রয়েছে।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ নির্মাণশৈলীতে তৈরি এমন তিনতলা মাটির বাড়ি সচরাচর দেখা যায় না। প্রয়াত শামসুজ্জোহার স্মৃতি বহনকারী বাড়িটি পরিবারের বসতভিটার পাশাপাশি পোরশার গ্রামীণ ঐতিহ্য ও আবেগের অংশ হয়ে রয়েছে।



























