শনিবার ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:২১, ২৭ আগস্ট ২০২৬

রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ গড়তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের আহ্বান : আমিনুর রহমান

রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ গড়তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের আহ্বান : আমিনুর রহমান
ছবি: সংবাদ পরিক্রমা

বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পোনা অবমুক্তকরণের মধ্য দিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) পালিত হয়েছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬। “রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এফএমবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুর রহমান।

গত ২৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন জলাশয়ে পোনা অবমুক্তকরণ ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন   বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শুরুতে দেশের মৎস্যজীবী, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও গবেষকদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রফেসর ড. মোঃ আমিনুর রহমান বলেন, “মাছ আমাদের আবহমান বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় একে লাভজনক পেশায় রূপান্তর করতে আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অগ্রগতি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতারও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

মৎস্য খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রফেসর ড. মোঃ আমিনুর রহমান। এগুলো হলো জলাশয় সুরক্ষা ও নদী-খালের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, মৎস্য অভয়াশ্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করা এবং গবেষণা, শিক্ষা ও বাস্তব প্রয়োগের সমন্বয়।

তিনি আরও বলেন, “উৎপাদন বাড়াতে হবে, কিন্তু টেকসইভাবে লাভ করতে হবে, কিন্তু ভবিষ্যৎ ক্ষতির ঝুঁকি রেখে নয়।” দেশের নদী-নালা, খাল ও প্রাকৃতিক জলাশয় দখল ও দূষণমুক্ত রাখার পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় বঙ্গোপসাগরের বিশাল সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ আহরণ ও সংরক্ষণ করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে এর অবদান আরও বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি মৎস্যজীবী, উদ্যোক্তা, গবেষক, প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

পরিশেষে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর সাফল্য কামনা করে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রফেসর ড. মো. আমিনুর রহমান।

এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে  বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়