রাবিপ্রবিতে আন্দোলনের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও আসেনি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আব্দুল গফুরের পদত্যাগ এবং পূর্ববর্তী উপাচার্য ড. মো. আতিয়ার রহমানের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
গত ১০ আগস্ট দুই দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেন। টানা ২৪ ঘণ্টা অনশনের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) যুগ্ম-সচিবের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন তারা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, অনশন ভাঙানোর সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ইউজিসির পক্ষ থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকল্প পরিচালক আব্দুল গফুরকে অপসারণ এবং পূর্ববর্তী উপাচার্যের নিয়োগ প্রক্রিয়া তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০ দিন পার হলেও সেই আশ্বাস বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
রবিবার (৩০ আগস্ট) রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা ইউজিসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক আব্দুল গফুরের নিয়োগে অনিয়ম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে এসেছে। আন্দোলনের পর প্রকল্প পরিচালকের ব্যবহৃত গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জব্দ করে। পরবর্তীতে গাড়িটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ব্যবহার করছেন বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।
অনশনকারী ও রাবিপ্রবির ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ইউনুস ইয়ামিন বলেন,“২৪ ঘণ্টার বেশি সময় অনশনরত থাকা অবস্থায় উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সম্মানিত সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন স্যারের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে ০৭ কর্মদিবসের মধ্যে দুর্নীতিবাজ প্রকল্প পরিচালক আব্দুল গফুরকে অপসারণ করবেন বলে নিশ্চিত করেন। কিন্তু দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে স্যাররা আমাদের সঙ্গে একটি নাটক মঞ্চস্থ করেছেন, যা আমরা এখন বুঝতে পারছি। যে ব্যক্তি নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি ২০ লাখ টাকা দিয়ে প্রকল্প পরিচালক হয়েছেন, তাঁকে কি অপসারণ করতে আরও তথ্য-প্রমাণ প্রয়োজন রয়েছে? মূলত, দুর্নীতি এখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। ভয় হচ্ছে, শিক্ষক সমাজও কি গফুরদের মতো মানুষদের কাছে বিক্রি হয়? তাহলে আমরা শিখব কার কাছে? কঠোর কর্মসূচি আসছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমরা জীবন দিতেও প্রস্তুত।”
অনশনকারী ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বাদশা সুলেমান বলেন,“উপাচার্য প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সম্মানিত সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন ০৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রকল্প পরিচালক আব্দুল গফুরকে অপসারণ করবেন বলে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন। কিন্তু দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এবং শিক্ষকদের কাছ থেকে এমন মিথ্যা আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ আমাদের আবারও শিক্ষা দিল, শিক্ষাঙ্গনে দুর্নীতি আজ রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তা না হলে প্রমাণিত একজন দুর্নীতিবাজ এবং আত্মস্বীকৃত দুর্নীতির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন অপসারণে এত গড়িমসি? অতি দ্রুত কঠোর কর্মসূচি দেখতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা রাবিপ্রবি ছাত্রসমাজ সর্বদাই ঐক্যবদ্ধ।”
এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফখরুদ্দিন উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে প্রকল্প পরিচালক আব্দুল গফুরের পদত্যাগ ও পূর্ববর্তী উপাচার্যের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সাত শিক্ষার্থী টানা ২৪ ঘণ্টা আমরণ অনশন করেন। পরে প্রশাসন ও ইউজিসির আশ্বাসে তারা অনশন ভঙ্গ করেন।



























