ভারতে মদ পান করে ১৯ জনের মৃত্যু
ভারতের নাগাল্যান্ডে অবৈধ চোলাই মদ পান করে গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আইনিভাবে ‘ড্রাই স্টেট’ হিসেবে পরিচিত রাজ্যটিতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধ মদের কারবার চলার বিষয়টি এই ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব নাগাল্যান্ডের মোকোকচুং ও তুয়েনসাং জেলায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মোকোকচুংয়ে অন্তত আটজন এবং তুয়েনসাংয়ে ১১ জন মারা গেছেন।
মদে বিষাক্ত বা ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক মেশানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে মৃতদের নমুনা গুয়াহাটির ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আই. বুংলাং চ্যাংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ মদ সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে রাজ্যজুড়ে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে প্রায় তিন হাজার বোতল অবৈধ মদও জব্দ করা হয়েছে।
নাগাল্যান্ডে ১৯৮৯ সালে প্রণীত আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে মদ উৎপাদন, বিক্রি ও সেবনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যের এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, আইন করে মদ নিষিদ্ধ করা হলেও এর অবৈধ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। বরং নিষেধাজ্ঞার সুযোগে রাজ্যে মদের একটি সমান্তরাল কালোবাজার গড়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক এই মৃত্যুর ঘটনায় সেই অবৈধ ব্যবস্থার ঝুঁকি নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে সরকারি পর্যায়ে মদ বিক্রি নিষিদ্ধ থাকার পরও কীভাবে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাচ্ছে, এর উৎস এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।



























