রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৫৫, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই বন্দুক হামলায় নিহত ২৭

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই বন্দুক হামলায় নিহত ২৭
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ ও কেপটাউনে পৃথক দুটি বন্দুক হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৬ জন। রোববার দেশটির পুলিশ হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছে। অপরাধপ্রবণ দেশটিতে চলমান বন্দুক সহিংসতার মধ্যেই নতুন করে প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটল।

শনিবার গ্রিনিচ মান সময় রাত সাড়ে ৭টার দিকে জোহানেসবার্গের পশ্চিমাঞ্চলের ওয়েডেলা এলাকায় একটি বারে ঢুকে গুলি চালায় আটজন বন্দুকধারী। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের হাতে অ্যাসল্ট রাইফেল ছিল। এ ঘটনায় ১৭ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও চারজন নারী রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।

জোহানেসবার্গ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, হামলাকারীরা প্রথমে বারের বাইরে বসে পানীয় পান করা লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে তারা বারের ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।

ওয়েডেলা মূলত ইটের তৈরি বাড়ি ও ছোট ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে গড়ে ওঠা একটি আধা-গ্রামীণ জনপদ। এলাকাটির বিস্তীর্ণ অংশ পরিত্যক্ত ও ক্ষতবিক্ষত খনির কারণে দুর্গম হয়ে রয়েছে। এসব পরিত্যক্ত খনিতে সক্রিয় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে পুলিশকে সহায়তার জন্য সেখানে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। অবৈধ খনন বন্ধে সরকারের চলমান অভিযানেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এই এলাকা।

ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রাদেশিক পুলিশের উপকমিশনার মেজর জেনারেল ফ্রেড কেকানা বলেন, ‘অপরাধীরা মনে করছে, এটি একটি ফ্যাশন। তারা এটিকে এমন কিছুতে পরিণত করতে চায়, যার সঙ্গে আমাদের অভ্যস্ত হয়ে যেতে হবে। কিন্তু তা কোনোভাবেই হতে দেওয়া বা সহ্য করা যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সন্দেহভাজনদের পরিষ্কার ছবি আমরা পেয়েছি। আমরা তাদের গ্রেফতার করব।’

কেকানা জানান, গত মাসে ওই এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে সর্বশেষ হামলাটি চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজনরা দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, নিহত ব্যক্তিদের একজনকে গত মাসে একই পানশালায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় খোঁজা হচ্ছিল। ওই ঘটনায় একজন নিহত ও আরেকজন আহত হয়েছিলেন।

এরই মধ্যে রোববার ভোরে কেপটাউনের বাইরে আরেকটি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। একটি জনপদের বিনোদনকেন্দ্রে চালানো ওই হামলায় নিহত হয়েছেন ১০ জন এবং আহত হয়েছেন ১১ জন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার আগে বিনোদনকেন্দ্রটিতে লোকজন নাচছিলেন এবং পানীয় পান করছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ শুরু হলে আতঙ্কিত হয়ে তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটতে থাকেন।

পুলিশ জানিয়েছে, দ্বিতীয় হামলায় নিহত পাঁচজনকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। বাকি পাঁচজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।

দুটি হামলার কোনোটিতেই এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আইনি ও অবৈধ—দুই ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের বিস্তারের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুক সহিংসতা দীর্ঘদিনের বড় সমস্যা। এসব সহিংসতার সঙ্গে প্রায়ই গ্যাংগুলোর দ্বন্দ্ব এবং অনানুষ্ঠানিক ব্যবসাগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার সম্পর্ক থাকে।

প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। হত্যার এই হার বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ।

এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেই দেশটির পূর্বাঞ্চলের বন্দরনগরী ডারবানের একটি জনপদে বাড়িতে আয়োজিত পার্টিতে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। ওই ঘটনায় ১১ জন নিহত হন।

সহিংস অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তা করতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গত মার্চে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা জোহানেসবার্গের সহিংসতাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সেনা মোতায়েন করেন। সে সময় তিনি ব্যাপক অপরাধকে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর অন্যতম বলে উল্লেখ করেন।

এর আগেও বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২০ সালে কঠোর কোভিড-১৯ লকডাউন বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানো হয়। ২০২১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমাকে কারাগারে পাঠানোর পর দেশজুড়ে প্রাণঘাতী দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লেও সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল।

২০২৩ সালে একের পর এক ট্রাক পোড়ানোর ঘটনায় ব্যাপক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হলে সড়কে সেনা মোতায়েন করা হয়। এর আগে ২০১৯ সালে কেপটাউনের আশপাশের গ্যাং-সহিংসতাপ্রবণ কেপ ফ্ল্যাটস এলাকায় পুলিশকে সহায়তার জন্য প্রায় ১ হাজার ৩০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল।

তবে এসব পদক্ষেপের পরও দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুক হামলা ও অন্যান্য সহিংস অপরাধ বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি হিসেবেই রয়ে গেছে।

সম্প্রতি জোহানেসবার্গের একটি পৌর এলাকায় মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ১০ জন নারী নিহত হওয়ার ঘটনাও দেশটির চলমান সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

জনপ্রিয়