আটলান্টিকের নাম বদলে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প
আটলান্টিক মহাসাগরের নাম নিজের নামে, অর্থাৎ ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এজন্য গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন তিনি। তবে ট্রাম্পের দাবি, পিচাই তাকে জানিয়ে দিয়েছেন, এবার আর এমন নাম পরিবর্তনে রাজি নয় গুগল।
বুধবার (২২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় এক সমাবেশে এ কথা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দুই পাশের মহাসাগর—আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের কোনো একটির নামের সঙ্গে নিজের নাম অথবা ‘আমেরিকা’ যুক্ত করার কথা ভেবেছিলেন তিনি।
সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, এই দুটি মহাসাগর ছাড়া অন্য কোনো মহাসাগরের সঙ্গে আমি ট্রাম্প বা আমেরিকা নাম যুক্ত করতে যাচ্ছি না।
এরপর গুগল ম্যাপসে আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করা সম্ভব কি না, তা জানতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানান তিনি।
এর আগে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল ম্যাপসে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ ও লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ দেখানো হয়েছিল।
গুগলের সিইও সুন্দর পিচাইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের বর্ণনা দিতে গিয়ে ট্রাম্প তাকে ‘মেধাবী ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করেন। গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিনেরও প্রশংসা করেন তিনি। দুজনকেই ‘অসাধারণ মেধাবী’ আখ্যা দিয়ে রসিকতা করে বলেন, ‘গালফ’ নিয়ে তারা এখনো কিছুটা আতঙ্কিত।
ট্রাম্প বলেন, তিনি পিচাইকে সরাসরি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, “সুন্দর, আমি আটলান্টিক মহাসাগরের কথা ভাবছি। তুমি কি এটা করতে পারবে?” জবাবে পিচাই বলেন, “না, না, না। এবার আমি এটা করছি না। মহাসাগর আলাদা বিষয়, স্যার। এগুলো অনেক দেশের সীমানাজুড়ে বিস্তৃত। দয়া করে আমাদের এমনটা করতে বলবেন না।”
এরপর ট্রাম্প সমাবেশে উপস্থিত লোকজনকে বলেন, তাহলে সম্ভবত আমি আর এগোবো না। আমার কি প্রস্তাবটি বাদ দেওয়া উচিত? নিজের প্রশ্নের জবাব নিজেই দিয়ে তিনি বলেন, আমার মনে হয়, আটলান্টিক মহাসাগরের নাম আটলান্টিক মহাসাগরই থাকুক।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও গুগল তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি। ফলে পিচাইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের যে বিবরণ ট্রাম্প দিয়েছেন, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগেও নাম বদলের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প
মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব এবারই প্রথম নয়। অক্টোবরের শুরুর দিকে টেনেসির এক সমাবেশেও আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ অথবা ‘আমেরিকা মহাসাগর’ রাখার কথা বলেছিলেন তিনি।
এছাড়া একটি নদীর নাম পরিবর্তন, নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম ‘নিউ আমেরিকা’ রাখা এবং হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার কথাও বলেছেন ট্রাম্প।
এসব প্রস্তাব এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তবে সরকারি নথিতে নাম পরিবর্তনের পর গুগল ম্যাপসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য ‘গালফ অব আমেরিকা’ ও ‘লেক আমেরিকা’ নাম দুটি দেখানো হয়েছে।
মেক্সিকো ও কানাডার ব্যবহারকারীরা যথাক্রমে উপসাগর ও হ্রদের পুরোনো নাম দেখতে পান। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে পুরোনো নামের পাশাপাশি বন্ধনীর মধ্যে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নামও দেখানো হয়।
আন্তর্জাতিকভাবে নামের স্বীকৃতি নিয়ে জটিলতা
মহাসাগর, উপসাগর ও হ্রদের নাম পরিবর্তনের মতো সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিকভাবে মানচিত্র তৈরির ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি করে। বিশেষ করে কোনো নাম এক দেশ গ্রহণ করলেও অন্য দেশ সেটি স্বীকৃতি না দিলে বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত মানচিত্রে কোন নাম দেখানো হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের আদেশের পর বিজনেস ইনসাইডারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিপ্লোগল গ্লোবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোসেফ রাইট বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কিছু দেশ এটি গ্রহণ না-ও করতে পারে।



























