বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪২, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত ঘিরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখছেন ব্যবসায়ীরা। এসব পরিস্থিতির প্রভাবে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার আন্তর্জাতিক সময় রাত ১২টা ৩০ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১০৬ ডলার ৫৮ সেন্টে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৮০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪ ডলার ৯৪ সেন্টে। এর আগের দিন মঙ্গলবার ব্রেন্টের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমলেও ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছিল শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোইউকি কিকুকাওয়া মনে করেন, হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

তবে রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানি বাড়লে সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা কমতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এতে তেলের বাজারে বড় ধরনের মূল্য ওঠানামার আশঙ্কাও কমবে। কিকুকাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডব্লিউটিআই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে।

এদিকে, সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। ধাহরান শহরে অবস্থিত ভবনটিতে হামলার পর সীমিত পরিসরে আগুনের ঘটনা ঘটে।

গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে একাধিকবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সৌদি আরবের সমর্থন দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও চার দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবারের একটি হামলায় প্রাণ হারান ১৩ জন।

এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কারণে তেল পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও উৎপাদন বাড়িয়েছিল সৌদি আরব। এতে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং রাশিয়াসহ সহযোগী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাসের সামগ্রিক তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। মঙ্গলবার ওপেক এ তথ্য জানায়।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার ক্ষেত্রে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে ইরান। তেলের দাম বাড়িয়ে রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করাই এ কৌশলের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন দেশটির দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তাঁরা এ তথ্য জানান।

এদিকে, ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল রপ্তানির চুক্তির মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই বলে জানিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার রুশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বক্তব্য দেওয়া হয়।

এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল রপ্তানির চুক্তি মস্কোকে পুনরায় শান্তি আলোচনায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার অংশ।

জনপ্রিয়