১০ অক্টোবর রাজধানী দিল্লি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি ককরোচ জনতা পার্টির
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে বিশাল সমাবেশ করেছে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)।
শুক্রবার রাতে মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বিক্ষোভ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, সিইসি পদত্যাগ না করলে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে নতুন করে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হবে।
সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে সারা দেশ থেকে মানুষ ১০ অক্টোবর দিল্লিতে জড়ো হয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করবে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের দাবিতে দেশের সব নাগরিককে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শিবাজি পার্কের সমাবেশে দিপকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সিইসি সরে না দাঁড়ালে পুরো দেশের তরুণ প্রজন্ম 'চলো দিল্লি' ডাকে সাড়া দিয়ে 'যন্তর মন্তর ২.০' আন্দোলন গড়ে তুলবে।
সমাবেশে ভোটার তালিকা নিয়ে গুরুতর কিছু অভিযোগ তোলেন দিপকে। তিনি দাবি করেন, গত দুই বছরে দেশজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে ৪০ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত করে বিজেপি নির্বাচন 'চুরি' করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এলাকা থেকে পরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
আরেক সিজেপি নেতা অজিঙ্কা শিন্ডে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা স্থগিত করা এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন বাতিলেরও দাবি ওঠে এই সমাবেশ থেকে। দিপকে অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন বিজেপির 'এক দেশ, এক নির্বাচন' নীতির পেছনের আসল উদ্দেশ্য হলো 'এক দেশ, এক দল' কায়েম করা। আঞ্চলিক দলগুলোকে শেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
পুলিশের অনুমতি না থাকা এবং দুপুরের তীব্র গরম উপেক্ষা করে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী এই বিক্ষোভে অংশ নেন। সমাবেশে প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি, নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজ, হানসাল মেহতা, সংগীতশিল্পী বিশাল দাদলানি এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী উপস্থিত ছিলেন। মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে মিল রেখে আয়োজিত এই প্রতিবাদ মঞ্চে অহিংসার বাণী ও বাবাসাহেব আম্বেদকরের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের হাতে নানা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেখানে সিইসির পদত্যাগের দাবি লেখা ছিল।
শিবসেনা (ইউবিটি) সিজেপির এই আন্দোলনে নিজেদের সমর্থন জানিয়েছে। দলটির স্থানীয় বিধায়ক মহেশ সাওয়ান্ত জানান, অসুস্থতার কারণে আদিত্য ঠাকরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। অন্যদিকে, সিজেপির আরেক নেতা সৌরভ দাস দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের আটকের ঘটনায় দিল্লি পুলিশের কড়া সমালোচনা করে তাদের আচরণ শোধরানোর হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, ভোটাধিকার সবার অধিকার। এই অধিকার সুরক্ষিত না হলে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ চরম সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।



























