“দায়িত্বে অবহেলা ও ফ্যাসিবাদীদের সহায়তা করলে কঠোর ব্যবস্থা”
দায়িত্ব পালনে অবহেলা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রদ্রোহের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার রাজারবাগ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে সরকার কঠোর হতে বাধ্য হবে। জনগণের শান্তি বিনষ্ট হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, দেশবাসী জনবান্ধব পুলিশ দেখতে চায়। তাই পুলিশ সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুলিশের শক্তি আগের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত করছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বাহিনীকে আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পুলিশকে কঠোর হতে হবে। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা জনগণের প্রত্যাশা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।
ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুলিশের কেউ কেউ গোপনে সংবাদ দিয়ে কিংবা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করছে—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
পুলিশের মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন না করা ও দায়িত্বে অবহেলার ঘটনাও রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধীরে ধীরে এসব ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা এক মাসে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে, জনগণ তাদের আর পুনরায় আহ্বান জানাবে না। এ ঘটনায় তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশও করেনি। সরকার তাদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে।
বর্তমান সরকারের ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণতান্ত্রিক ভিত্তি, জন-আকাঙ্ক্ষা, ব্যাপক জনপ্রত্যাশা ও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে আইজিপি পর্যন্ত সবার কাছে সরকারের একটাই বার্তা—সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনপ্রত্যাশা পূরণে পুলিশকে কঠোর হতে হবে।



























