বিএনপির র্যালিতে শেখ হাসিনাসহ সাবেক মন্ত্রীদের ব্যঙ্গচিত্র
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাবেক কয়েকজন মন্ত্রীর রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সার্বভৌমত্ব র্যালিতে নেতাকর্মীদের এমন ব্যতিক্রমী প্রতীকী ব্যঙ্গচিত্র দেখা যায়। র্যালিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের এই প্রতীকী ব্যঙ্গচিত্র উপস্থিত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
র্যালিতে প্রদর্শিত একটি প্রতীকী খাঁচায় শেখ হাসিনাকে ‘রাক্ষুসীর’ আদলে বড় বড় দাঁতসহ উপস্থাপন করা হয় এবং খাঁচার গায়ে লেখা ছিল ‘আমি রক্ত পিপাসু’। এর পাশেই ‘কেন্দ্রীয় কারাগার’ লেখা আরেকটি খাঁচায় বন্দি অবস্থায় দেখা যায় সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে।
শনিবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এই শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এর আগে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে র্যালিটি কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবন, হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ অভিমুখে যাত্রা করে।
র্যালিতে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ গড়া ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র কেড়ে নিয়ে বাকশাল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা আবার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে এনেছিল এবং স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিল।
তিনি বলেন, পরাজিত শক্তি আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। যারা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি, তাদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। এ দেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আজকের র্যালি হোক দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার র্যালি।”
ঢোল ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নানা রঙের পোশাক পরে নারী-পুরুষ ও তরুণ-প্রবীণ নির্বিশেষে হাজারো নেতাকর্মী বর্ণিল এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন উৎসবমুখর রূপ পায়।
তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমানুল্লাহ আমান এবং ফরহাদ হালিম ডোনার।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।



























