রাখাইনে মিয়ানমারের বিমান হামলায় নিহত ৪৯
বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও শহরের একটি জনবহুল বাজারে বিমান হামলায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫৮ জন। আহতদের মধ্যে অন্তত ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে আরাকান আর্মি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কিয়াউকতাও শহরের ওই বাজারে মিয়ানমারের বিমানবাহিনী হামলা চালায় বলে দাবি করেছে আরাকান আর্মি। সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় হামলাটি চালানো হয় বলে জানা গেছে।
আরাকান আর্মির বিবৃতি অনুযায়ী, একটি যুদ্ধবিমান থেকে বাজার লক্ষ্য করে দুটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৪৯ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে অন্তত ২২ জনের অবস্থা গুরুতর।
হামলায় হতাহত সবাই বেসামরিক নাগরিক বলে দাবি করেছে আরাকান আর্মি। নিহত ও আহতদের মধ্যে বাজারের অস্থায়ী দোকানি, স্থায়ী ব্যবসায়ী এবং সাধারণ পথচারী ছিলেন বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ বিষয়ে রাখাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও উদ্ধারকারী বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াই হুন অংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি আরাকান আর্মির দেওয়া হতাহতের সংখ্যার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে।
ওয়াই হুন অং বলেন, কিয়াউকতাওয়ের ওই বাজারটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাজার। প্রতিদিন সেখানে বিপুলসংখ্যক ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হয়। রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ ও খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাজারটিতে আসেন।
এ কারণে জনসমাগমপূর্ণ ওই বাজারে বিমান হামলার ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাস্থলের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবি ও ভিডিওতে কিয়াউকতাও শহরের বাজার ও আশপাশের কয়েকটি স্থাপনায় আগুন জ্বলতে দেখা যায়। কয়েকটি গাড়ি ও বাসেও আগুন ধরে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
এ ছাড়া ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে বাজারের কাছাকাছি একটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিত্রও দেখা যায়। হামলার পর বাজার ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এসব দৃশ্য থেকে ধারণা পাওয়া যায়।
তবে এ হামলার বিষয়ে মিয়ানমারের বিমানবাহিনী বা দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষের কোনো তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার উদ্দেশ্য এবং বেসামরিক মানুষের হতাহতের বিষয়ে আরাকান আর্মির দেওয়া তথ্যের বাইরে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।



























