শুক্রবার ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:১০, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিচার ব্যবস্থাকে মানুষের আস্থার জায়গায় আরও সুদৃঢ় করতে চাই: আইনমন্ত্রী

বিচার ব্যবস্থাকে মানুষের আস্থার জায়গায় আরও সুদৃঢ় করতে চাই: আইনমন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের যে আস্থা, ভরসা ও বিশ্বাসের জায়গা তৈরি হয়েছে, সেটিকে আমরা আরও শানিত, আরও দৃঢ়, আরও উন্নত করতে চাই। মানুষের আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সিএমএম) কনফারেন্স রুমে দুটি ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন। এই বিপুলসংখ্যক মামলা ২,৩০০ জন বিচারকের পক্ষে নিষ্পত্তি করা পাহাড়সম প্রতিবন্ধকতা। এটি তাদের ওপর অনেক সময় অমানবিক চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মহানগরগুলোতে এই চাপ আরও বেশি। তাই আমরা চিন্তা করছি, যেসব জেলায় মামলার চাপ বেশি, সেখানে এমন বিচারকদের পদায়ন করব, যারা শুধু চাকরি করার জন্য নয়, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে জুডিশিয়াল অ্যাকটিভিজম দেখাতে পারবেন। আমরা বাছাই করে সেরকম কর্মকর্তাদের আনতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রিপোর্ট পাচ্ছি, কোনো কোনো জায়গায় দুই-তিন ঘণ্টা আদালত পরিচালনা করা হয়। আইনজীবীদের পক্ষ থেকে কিছুক্ষণ আগেও বলা হলো, কোনো কোনো আদালতে বিচারক আসেন বেলা ১১টায়, আবার দেড়টা-দুইটার মধ্যে কাজ শেষ করে চলে যান। যদি এমন কোনো জুডিশিয়াল অফিসার থাকেন যিনি আয়েশ করে চাকরি করতে চান, তাদের জন্য আমরা ব্যবস্থা করতে পারব বলে আশা করি। তাদের এমন জায়গায় পদায়ন করা হবে, যেখানে আয়েশ করে চাকরি করা যাবে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জুডিশিয়ারির জন্য সামনের দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এআই। যখন এআই-এর ওপর নির্ভর করে রায় লিখতে যাবেন, স্বাক্ষর-জবানবন্দি নেবেন, তখন ন্যায়বিচার পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। কারণ এআই এখন এত নিখুঁতভাবে মানুষকে ক্লোন করতে পারছে, এত নিখুঁতভাবে মানুষের কণ্ঠ নকল করতে পারছে, যা আগামী দিনে বিচারকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।’

বিচারকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা বিচারক হিসেবে বসেছেন, আপনারা ন্যায়বিচার করতে বসেছেন। সেই ন্যায়বিচারের জায়গাটি সচেতনভাবে রক্ষা করতে হলে, এআই’কে মোকাবিলা করতে হলে, ডিজিটাল খাতে আপনাদের আরও বেশি পারদর্শী হতে হবে। যুগের চাহিদা মেটাতে, যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য আপনারা প্রস্তুত আছেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

জনপ্রিয়