‘ফিরে আসার গল্প’ নিয়ে দর্শকদের প্রশ্নের জবাব দিলেন নির্মাতা রাজ
জনপ্রিয় নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ধারাবাহিক ‘ফিরে আসার গল্প’ শুরু থেকেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। আটটি পর্ব প্রচারের পর গল্পের নানা ঘটনা, চরিত্রের আচরণ ও সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। দর্শকের একেকজন একেকভাবে গল্পের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, তুলছেন নানা প্রশ্ন।
ধারাবাহিকটির আদিল (খায়রুল বাসার), নুরজাহান (তানজিম সাইয়ারা তটিনী), ওসমান (জাহিদ হাসান), সুলতান (শহীদুজ্জামান সেলিম), আয়েশা (মনিরা আক্তার মিঠু), সিকান্দার (ফায়জুল ইয়ামিন) ও রুকাইয়া (দীপা খন্দকার)—প্রতিটি চরিত্রই দর্শকের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে চরিত্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং কিছু রহস্যময় ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা জিজ্ঞাসা।
দর্শকদের কেউ জানতে চাইছেন, সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার আগেই নুরজাহান কেন আদিলকে জড়িয়ে ধরল? আবার কারও প্রশ্ন, আয়েশাকে কেন নুরজাহানকে স্বর্ণের বালা দিতে হলো? রুকাইয়া চরিত্রে দীপা খন্দকারের ভিন্নধর্মী উপস্থিতি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা।
এদিকে নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের আগের ধারাবাহিক ‘এটা আমাদেরই গল্প’র সঙ্গেও নতুন সিরিজটির তুলনা করছেন কেউ কেউ। যদিও শুটিং শুরুর সময় রাজ জানিয়েছিলেন, দুটি ধারাবাহিকের গল্পে কোনো মিল নেই। দুটিই পরিবারকেন্দ্রিক হলেও কাহিনি ও উপস্থাপনায় রয়েছে ভিন্নতা।
দর্শকদের এসব প্রশ্ন ও সমালোচনার জবাব দিয়েছেন নির্মাতা রাজ। তিনি জানিয়েছেন, ধারাবাহিকের পরবর্তী পর্বগুলোতে ধীরে ধীরে সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে গল্পের ছোটখাটো বিষয়েও দর্শকের মনোযোগ দেখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
রাজ বলেন, “সব প্রশ্নের উত্তর আস্তে আস্তে সিরিজের পরবর্তী পর্বগুলোতে পাওয়া যাবে। কেন বালা দিয়েছে, কেন মিঠু আপা কান্না করছে, সবকিছুর উত্তরই সামনে আসবে। সুপার গ্লু কেন বিক্রি হয়নি? যারা কমেন্টে এই প্রশ্নটি করেছেন, তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই। এখন পর্যন্ত আট পর্বে আমি মাত্র ছয় দিনের ঘটনা দেখিয়েছি। সুপার গ্লু এমন কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নয়, যা প্রতিটি দোকানে প্রতিদিনই বিক্রি হবে।”
দর্শকদের মনোযোগের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “তবুও আপনারা এত মনোযোগ দিয়ে নাটকটি দেখছেন, ছোট ছোট বিষয়ও খেয়াল করছেন, এজন্য আপনাদের বিশেষ ধন্যবাদ। দর্শকের এই মনোযোগ ও সম্পৃক্ততা একজন নির্মাতা হিসেবে আমার কাছে অনেক। আটটি পর্বে ছয় দিনের গল্প দেখানো হয়েছে। কিন্তু এই আটটি পর্ব প্রকাশ করতে সময় লেগেছে প্রায় এক মাস। তাই অনেকেই হয়তো ভাবছেন, এক মাসে গল্পে তেমন কোনো পরিবর্তন বা অগ্রগতি দেখা গেল না কেন।”
ধারাবাহিকটির গতি নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রাজ। তার ভাষ্য, একটি গল্পের ভিত তৈরি করতে এবং চরিত্রগুলোকে দর্শকের কাছে পরিচিত করে তুলতে সময়ের প্রয়োজন হয়। গল্পটি এখন যে অবস্থানে রয়েছে, সেখান থেকে ধীরে ধীরে নতুন দিকে মোড় নেবে।
নির্মাতা বলেন, “যারা গল্পের প্রতিটি বিষয় এত নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তাদের প্রতি আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। আর যারা সিরিজটিকে স্লো বলছেন, তাদেরও ধন্যবাদ। একটি গল্পের ভিত তৈরি করতে, চরিত্রগুলোকে দর্শকের কাছে পরিচিত করে তুলতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। কারণ এখন গল্পটি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেখান থেকে ধীরে ধীরে অন্যদিকে মোড় নেবে।”
দর্শকদের ভালোবাসা ও সমালোচনা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে রাজ আরও বলেন, যারা পাশে থাকছেন, ভালোবাসা দিচ্ছেন কিংবা ভুল ধরিয়ে দিয়ে সমালোচনা করছেন, সবার প্রতিক্রিয়াই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিক্রিয়া তাকে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
‘ফিরে আসার গল্প’র বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন খায়রুল বাসার, তানজিম সাইয়ারা তটিনী, জাহিদ হাসান, শহীদুজ্জামান সেলিম, মনিরা আক্তার মিঠু, দীপা খন্দকার, ডা. এজাজুল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, অদিতি জামান স্নেহা, মুকিত জাকারিয়া, এমএনইউ রাজু ও ডিকন নূরসহ অনেকে।
এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে প্রায় ১৩ বছর পর আবারও একই নাটকে অভিনয় করছেন দুই অভিনেতা জাহিদ হাসান ও শহীদুজ্জামান সেলিম। চ্যানেল আইতে প্রচারের পাশাপাশি প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুপুরে সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হচ্ছে ধারাবাহিকটির নতুন পর্ব।



























